ছাগলদী গ্রাম কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়ন

ছাগলদী গ্রাম কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়ন

ছাগলদী গ্রাম নগরকান্দা উপজেলার বড় গ্রাম গুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি নগরকান্দা পৌরসভা লাগোয়া কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের একটি গ্রাম। কোদালিয়া ইউনিয়নের ৪,৫, ও ৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে এই গ্রামটি গঠিত। ছাগলদী গ্রামের পূর্বে রয়েছে নগরকান্দা পৌরসভার মিনারগ্রাম, নগরকান্দা, দক্ষিনে রয়েছে করপাড়া, আটকাহনিয়া, কাজুলি গ্রাম পশ্চিমে রয়েছে সালথা উপজেলার হরিণা গ্রাম। ছাগলদী গ্রামের পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত  প্রায় পাঁচ কিলোমিটার কুমার নদ প্রবাহমান। নদের অপর প্রান্তে রয়েছে কুমারপট্রি, বাঘুটিয়া এবং জুঙ্গুরদী গ্রাম।

ধারনা করা হয় গ্রামটি কুমান নদের জেগে ওঠা চরেছাগলদী গ্রাম কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়ন গড়ে উঠেছে। এর জনবসতী খুব বেশি প্রাচীন নয়, আনুমানিক ৩০০ থেকে চারশত বছর হবে। গ্রামটির নাম করণের সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। কারো কারো মতে এক সময়ের কোনো বড় নদ বা নদীর জেগে ওঠা চর ছিল যা সাগরের দ্বীপসম মনে হতো এবং এই গ্রামকে সাগর দ্বীপ বলা হতো এবং সেখান থেকেই পরিবর্তন হয়ে ছাগলদী। অন্য একটি মত ও রয়েছে যার গ্রহণযোগ্যতা আমার কাছে বেশি মনে হয়। এই চর জেগে ওঠা ঘাসে ভরা নতুন গ্রামটিতে ছাগল পালনের বিশেষ সুবিধা ছিল যে কারনে গ্রামটি ছাগল পালনে বিখ্যাত হয়ে ছাগলদী নাম করন হয়ে যায়।

আনুমানিক ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর পূর্বে ফটিক মুন্সী (রঃ) নামে এক আধ্যাতিক সাধক এই নির্জন গ্রামে সদ্য গড়ে ওঠা বসতীতে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এই গ্রামে আসেন এবং গ্রামের সভ্যতার আলো ছড়ান। এই মহান সাধক তাঁর আধ্যাতিক সাধনায় বিশেষ খ্যাতি অর্জণ  করেন এবং নিকটবর্তী এলাকার বহু মানুষ তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এই সমেয় গ্রামে খন্দকার মাসুম নামে জ্ঞান সাধনার প্রয়াস নিয়ে নৌপথে  যাত্রাকালে এই গ্রামে যাত্রা বিরতী নেন। সেই সময়ে ফটিক মুন্সী (রঃ) এর নজরে এই যুবক আসেন। তিনি তাঁর ব্যবহারে মুগ্ধহন এবং এই গ্রামে বসবাসের জন্য থেকে যেতে অনুধরোধ করেন। অপর পক্ষে যুবক ও সাধকের কথা ফেলতে পারেন নি। তিনি থেকে যান এই গ্রামে। পরবর্তীকালে এই যুবকের বংশধার মাধ্যমে গ্রামে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটে।

যোগানন্দ বিশ্বাস গ্রামের আরএক হিন্দু ধর্মীয় সাধক। এই সাধকের দেশ ব্যপি বহু ভক্ত রয়েছে। গ্রামে এই সাধকের নামে একটি আশ্রম রয়েছে যা যোগানন্দ আশ্রম নামে পরিচিত। আশ্রমটি একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতিবছর রাস পূর্নিমাকে কেন্দ্র করে এখানে তিন দিন ব্যপি মেলা হয়।

এই গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২ নং ছাগলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা রয়েছে। এছাড় রয়েছে একটি প্রাচীন ঈদগাহ। এই ঈদগাহে প্রতিবছর দুই ঈদে সমস্তগ্রামবাসী  এক হয়ে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করে এবং এখানে নগরকান্দার অন্যতম বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এই গ্রামটিতে হিন্দু মুসলমান সবাই মিলে মিশে একটি বন্ধনে আবদ্ধ। সবাই সুখে দুখে এক হয়ে পথ চলে। গ্রামটিতে ১৪টি ময়াল রয়েছে যার প্রধানদেরকে মাতুব্বর বলা হয়। গ্রামের যে কনো সংকট অথবা কনো বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ১৪ মাতুব্বর এবং গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সভার মাধ্যমে সমাধান করে।

অনাবীল শান্তি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ছাগলদী গ্রাম। সবার জন্য রইল এই গ্রামে আসার নিমন্ত্রন।