কোরিয়া সার্কুলারে (লটারি) আবেদন যেভাবে করবেন।

0
848

কোরিয়া সার্কুলারে (লটারি) আবেদন যেভাবে করবেন।

বাংলাদেশ সরকারি প্রতিষ্ঠান বয়সেল এর আওতায় কোরিয়া সার্কুলারের রেজিষ্ট্রেশন তারিখ প্রকাশ হয়েছে। আবেদন তারিখ ২২ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২০০৭ সাল থেকে কোরিয়া বাংলাদেশ উভয় সরকার এক সাক্ষরের মাধ্যমে ইপিএস সিস্টেম চালু করেন। এই প্রক্রিয়ায় কোরিয়ান ভাষা শিখে ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সরকারি খরচে কোরিয়া যাওয়া সম্ভব। ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক কোরিয়াতে কর্মরত রয়েছেন।

কোরিয়ায় চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সরকারি ভাবে মাত্র ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ওয়ার্ক ভিসায় কোরিয়া যেতে চাইলে আপনাকে নিচের পদ্ধতি গুলো পর্যায়ক্রমে অনুসরণ করতে হবে। এই পদ্ধতি গুলোর স্টেপ বাই স্টেপ শেষ করতে পারলেই কেবল মাত্র আপনি দক্ষিণ কোরিয়ায় ওয়ার্ক ভিসায় যেতে পারবেন।


১) কোরিয়া ভিসা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সার্কুলার প্রকাশ
২) সার্কুলার প্রকাশিত হওয়ার পরে নির্ধারিত দিনে অনলাইনে আবেদন
৩) অনলাইনে আবেদনের পরিপেক্ষিতে লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত কোটা অনুসারে কোরিয়া লটারি রেজাল্ট ঘোষণা
৪)কোরিয়া লটারিতে বিজয়ীদের বাংলাদেশ অভারসিজ লিমিটেড বোয়েসেল এর মাধ্যমে নির্ধারিত ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন।
৫)রেজিস্ট্রেশন কৃত কোরিয়া গমনেচ্ছুক প্রার্থীদের ভাষা পরীক্ষা।
৬) ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের শারীরিক দক্ষতা পরীক্ষার
ভাষা পরীক্ষা ও দক্ষতা পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা।
৭) পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের এইচ আর ডি কোরিয়ার মাধ্যমে জব রোস্টার ভুক্ত
৮) জব রোস্টারে অন্তর্ভুক্তদের কোরিয়ায় নির্ধারিত কোম্পানি থেকে জব অফার
৯) বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট থেকে ৪/৫ দিনের প্রশিক্ষনে অংশ নিতে হবে
১০) বোয়েসেলের মাধ্যমে মেডিক্যাল টেস্টে অংশ নিতে হবে
১১) ১ লক্ষ টাকা ফেরতযোগ্য জামানত হিসাবে বোয়েসেলের একাউন্টে ১ লক্ষ টাকা জামানত রাখার জন্য ব্যাংক ড্রাফ্‌ট করতে হবে।
১২)নির্ধারিত দিনে কোরিয়া গামী প্লেনে করে কোরিয়া গমন।

উল্লেখ্য যে মাত্র ৮০ হাজার টাকা খরচ করে সরকারি ভাবে দক্ষিন কোরিয়া যাবার জন্য কোরিয়া সরকারের ইপিএস ভিসা বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বের ১৬ টি দেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক লোক কোরিয়ান ওয়ার্ক ভিসায় কোরিয়ার গিয়ে থাকেন ।

এই বছর সার্কুলারে নতুন কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে যা কিনা আমরা বেশিরভাগ মানুষই অবগত। তবুও বিষয়টা আরও  পরিষ্কার করে বুঝানোর চেষ্টা করেছি।

আবেদনের তারিখঃ কোরিয়ান রেজিষ্ট্রেশন শুধুমাত্র ২২ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে শুরু করে ২৪ ডিসেম্বর বিকাল ৫ টা পর্যন্ত করতে পারবেন। এর মধ্যে ২২ ও ২৩ তারিখ রাত ১২টা থেকে ২ টা পর্যন্ত এই ২ ঘন্টা বন্ধ থাকবে। মানে এই সময় ছাড়া বাকি সময় গুলোতে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন।

লটারি ড্রয়ের তারিখঃ লটারি ড্র হবে ২৬ তারিখ ৩ টার পরে। ড্রয়ের ফলাফল হাতে পেতে ৬-৭টা বেজে যাবে। সহজভাবে বললে আমরা রেজাল্ট দেখতে পারবো ৭ টার দিকে।

আবেদনের যোগ্যতাঃ আবেদন করার জন্য আপনার বয়স ১৮-৩৯ বছর হতে হবে। সেই সুবাদে আপনার জন্মসাল ১৯৮০/০৩/২৩ তারিখ থেকে ২০০২/০৩/২২ তারিখের মধ্যে হলেই কেবল আবেদন করতে পারবেন।

আপনার নামে যদি বড় ধরনের মামলা না থাকে। মানে আপনি যদি মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল না হয়ে থাকেন তাহলে আবেদন করতে পারবেন। ছোটোখাটো মামলা যেমন রাজনৈতিক মামলা,মারামারির মামলা এসবে কোনো ঝামেলা হবেনা।

আপনি যদি কোরিয়াতে আগে ৫ বছর বা এর বেশি অবস্থান করে থাকেন তাহলে আপনি আবেদন করতে পারবেন না।

কোরিয়ান ভাষা জানা থাকলে ভালো। না থাকলেও সমস্যা নেই। সার্কুলার এতো আগে দিয়েছে শুধুমাত্র আপনাদেরকে কোরিয়ান ভাষা ভালোভাবে পড়ার জন্য। কাজেই এটা নিয়ে চিন্তা না করাই ভালো।

পাসপোর্ট লাগবে। অনলাইন আবেদন ফরম পুরন করার সময় পাসপোর্ট এর স্ক্যান কপি ৪৫-৬০ কেবি রিসাইজ করে শুধুমাত্র ছবি ওয়ালা অংশ এড করতে হয়। এছাড়া পাসপোর্ট নাম্বার, পাসপোর্ট অনুযায়ী আপনার নাম, জন্মসাল, পাসপোর্ট এর ইস্যু ডেট, পাসপোর্ট এর এক্সপাইরি ডেট লিখতে হয়। তাই পাসপোর্ট ছাড়া রেজিষ্ট্রেশন সম্ভব না। এটা লাগবেই।

মদ আর সিগারেট খাইলেও আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু ইয়াবা, হেরোইন, গাজা,কোকেন এসব খাওয়ার অভ্যাস থাকলে আবেদন করতে সমস্যা নেই। কিন্তু লটারি তে নাম আসলে খাওয়া বাদ দিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। তাহলে হয়তো ফাইনালি সিলেক্ট হইলে তখন ডোপ টেস্টে ধরা পরবেন না।তবুও যারাই ইয়াবা, হেরোইন, গাজায় অভ্যস্ত তাদের আবেদন না করাই ভালো। কেননা উনারা পড়াশোনা করেনা। নেশায় ডুবে কল্পনার রাজ্যে ভাসে। পড়াশোনা তাদের কে দিয়ে হয়না।

এবারের নতুন নিয়মের মধ্যে একটা হচ্ছে – ৫০০ টাকা বিকাশ করতে হবে যা আগে কখনই ছিলোনা। এবারই নতুন যুক্ত হইছে। এই টাকা লটারি তে নাম আসুক বা না আসুক আপনি আর কোনোদিনই ফেরত পাবেন না। কিভাবে বিকাশ করবেন??? বিকাশ এপ ডাউনলোড করুন। সেখানে মেইক পেমেন্ট অপশনে গিয়ে বোয়েসেলের দেয়া মার্চেন্ট একাউন্টের নাম্বার বা নাম লিখে টাকার পরিমান লিখুন এবং তা সাবমিট করুন। অথবা *247# এ ডায়াল করুন। তারপর 3 লিখে সেন্ড করুন তারপর মারচেন্ট নাম্বার ইনপুট করুন এবং টাকার পরিমান দিয়ে সেন্ড করুন। পেমেন্ট কম্পলিট হয়ে গেলো। পেমেন্ট করা হলে বিকাশ থেকে আপনাকে একটা ট্রানজেকশন আইডি দেবে মানে একটা নাম্বার দেবে। সেই নাম্বারটাই মুলত দরকার। কেননা অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করার সময় সেই ট্রানজেকশন আইডি ইনপুট করতে হবে। সহজ ভাবে বললে বোয়েসেলে রেজিষ্ট্রেশন করার আগে আপনাকে অবশ্যই আগে বিকাশে টাকা পেমেন্ট করতে হবে। বিকাশ সার্ভারের সাথে বোয়েসেলের সার্ভার যুক্ত থাকবে। তাই ভুল ট্রানজেকশন আইডি দিলে বা একই আইডি একাধিকবার ব্যাবহার করলে রেজিষ্ট্রেশন হবেনা। একটা রেজিষ্ট্রেশন এর জন্য একটাই ট্রানজেকশন আইডি ব্যাবহার করতে পারবেন।

আরেকটা নতুন নিয়ম হচ্ছে- শিক্ষাগত যোগ্যতা। এবার রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ বা এর সমমান পাশ হতে হবে। আপনি সাইন্স,কমার্স,অার্টস,মাদ্রাসা,ভোকেশনাল,উন্মুক্ত যেকোনো বিষয় থেকে পাশ করলেই হবে। কওমী মাদ্রাসাকেও বর্তমান সরকার শিক্ষার মানের স্বীকৃতি দিয়েছে। কাজেই আপনি কওমী থেকে পড়লেও আবেদন করতে পারবেন। মুল কথা হচ্ছে আপনার কাছে অবশ্যই এসএসসি বা এর সমমানের সার্টিফিকেট থাকতে হবে।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে- ট্যাকনিক্যাল কোটা।  যারাই ২০১৪ সালে বা ২০১৪ সালের পরে ভোকেশনাল স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেছেন বা ডিপ্লোমা করেছেন তাদের জন্য স্পেশাল কোটা সিস্টেমে হয়তো আলাদাভাবে লটারি হবে। এক্ষেত্রে ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, ফুড এন্ড বেভারেজ, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশন,গার্মেন্টস, প্রিন্টিং এন্ড প্রেস,সিএনসি মেশিন, অটোমোবাইল, অটোমেশন  এসবের উপর ডিপ্লোমা বা এসএসসি পাশ করলে আপনাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। কৃষি,সিভিল,কনস্ট্রাকশন,কম্পিউটার এসব কোনো কোটায় পরবেনা।

২০১৪ এর আগে ভোকেশনাল বা ডিপ্লোমা করা যে বিষয় এ থাকুক না কেনো তা জেনারেল শিক্ষার মান ধরা হবে। মানে হচ্ছে তাদের কে কোটার অধীনে ধরা হবেনা। তবে তারা রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবে।

ভুয়া বা জাল সার্টিফিকেট ব্যাবহার করলে যার যার দায়িত্ব তার তার। কেননা একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে বাদ পরলে আপনিই আফসোস করবেন। কাজেই এটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

প্রাইমারি রেজিষ্ট্রেশন এর সময় হয়তো সার্টিফিকেট লাগবেনা। ফাইনাল রেজিষ্ট্রেশন এর সময় এপ্লিকেশন ফরমের সাথে এসএসসির সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।

এবার ফাইনাল রেজিষ্ট্রেশন পরে হবে মানে বোয়েসেলে গিয়ে কাগজপত্র জমা হয়তো ফেব্রুয়ারী মাসের শেষের দিকে বা মার্চ মাসের মাঝামাঝি হবে। কবে এবং কখন হবে তা এখন বোয়েসেল জানাচ্ছেনা। দেশভিত্তিক কোঠা নির্ধারন হলে তারপর তারিখ জানাবে।

লটারিতে কতজন টিকাবে তা উল্লেখ করেনি। তবে আলম স্যারের তথ্য অনুযায়ী ১০-১২ হাজার জন। আর ওয়েটিং লিষ্টও একই সাথে দিতে পারে বা আরো পরে দিতে পারে। তবে ওয়েটিং লিষ্টেও মিনিমাম ৫-৬ হাজার লোক রাখবে। কেননা এবার ফাইনাল রেজিষ্ট্রেশন এ বাতিলের পরিমান অনেক বেশি থাকবে।

শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে কালার ব্লাইন্ডনেস। আপনার যদি কোনো রং দেখতে সমস্যা হয় তাহলে আবেদন না করাই উত্তম। কেননা সব ঠিক থাকলেও কালার ব্লাইন্ডনেস এর কারনে আপনি বাদ যাবেনই। কাজেই এটা নিশ্চিত হয়েই আবেদন করবেন আশা করি।

আশা করি আর কারো কোনো ধরনের কনফিউশান নেই। তবুও না বোঝার মত কিছু থাকলে জিজ্ঞাসা করবেন। অবশ্যই চেষ্টা করবো সর্বোচ্চ সহায়তা করতে।

আপনি নিজে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারলে অবশ্যই ভালো। যদি আপনি নিজে রেজিষ্ট্রেশন করতে না পারেন তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত কোন কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে  রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেন । বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান ৩০০ টাকা বেশি দিবেন।  আপনি নিজে করতে পারলে আপনার খরচ হবে ৫০০ আর মেগাবাইট কেনার খরচ। আর ভাষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে করালে ৫০০+৩০০=৮০০ টাকা লাগবে। কোন টেলিকম বা অনলাইন কম্পিউটার দোকান থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে বিরত থাকুন। ৮০০ টাকার বেশি দাবি করলে অবশ্যই প্রতিবাদ করুন।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে আপনি ভাষা প্রতিষ্ঠান  দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করালে অন্য কাওকে দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করানোর চেষ্টা বা নিজে করতে পারবেন না৷ কেননা এই ধরনের রেজিষ্ট্রেশন গুলো খুবই সেন্সেটিভ । তাই যেকোনো একদিকে যেতে হবে।