দেওড়া গ্রাম শাহজাদাপুর ইউনিয়ন

hard logo

দেওড়া গ্রাম শাহজাদাপুর ইউনিয়ন

দেওড়া গ্রাম প্রত্নতাত্ত্বিক সরাইল উপজেলার আওতাধীন শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রাম। ভৌগোলিক দিক দিয়ে এই গ্রামের অবস্থান ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ পাশে। যার পূর্বে অবস্থান করছে অত্র ইউনিয়নের নিয়ামতপুর ও ধাওরিয়া গ্রাম,পূর্ব উত্তর দিকে অবস্থান করছে শাহজাদাপুর গ্রাম, উত্তর পাশে অবস্থান করছে মলাইশ গ্রাম এবং দক্ষিণে অবস্থান করছে পার্শ্ববর্তী শাহবাজপুর  ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রাম এবং পশ্চিমে অবস্থান করছে বুড্ডা গ্রাম।

দেওড়া গ্রামের নামকরণ:এই গ্রামের নামকরণ সম্পর্কে কোন সুস্পষ্ট বর্ণনা না পাওয়া গেলেও অত্র গ্রামের মুরব্বিদের কাছে প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায় যে,সরাইল উপজেলাধীন এই গ্রামের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন শাহবাজপুরের দেওয়ান শাহবাজ এর নামের প্রথম অংশ দেওয়ান থেকে দেওড়া ও শাহবাজ থেকে শাহবাজপুর নামকরণ করা হয়েছে।

দেওড়া গ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য:শাহজাদাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত অন্যান্য গ্রামের তুলনায় দেওড়া বহুলাংশে সমৃদ্ধ একটি গ্রাম।এই গ্রামের শতকরা ৮৭ ভাগ মানুষ উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। এই গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত আছেন।তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃএস.এম.আমিনুল হক(সহকারী ব্যাবস্থাপক, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক),এস.এম.জাহিদুল হাসান(অডিটর,বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে,বাংলাদেশ),সোহাগ আহমেদ (প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার) এছাড়া আরও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই এলাকার কৃতিসন্তান হিসেবে ভূষিত হয়েছেন।

বিশিষ্ট ধর্মপ্রবর্তক :ধর্মের প্রসার ঘটাতে ১৮০০ সালের শেষের দিকে মক্কার একদল সাহাবায়ে কেরামের এই অঞ্চলে আগমন ঘটে।তৎকালীন সময়ে ইসলামের দাওয়াত প্রচারের জন্য বর্তমান দেওড়া(তৎকালীন সরাইল অঞ্চলের পূর্বাঞ্চলে ঘাটি তৈরী করেন। তাদের দাওয়াতের কাজ শেষ হলে, সব সাহাবায়ে কেরাম নিজ দেশ মক্কা নগরীতে ফিরে গেলেও একজন (নাম না জানায় উল্লেখ করা হয়নি)এই অঞ্চলের বর্তমান দেওড়া গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন।পরবর্তীতে ঐ সাহাবী মিশরীয় এক নারীকে বিয়ে করলে কিছুদিনের মধ্যেই তাদের সংসারে এক পুত্র সন্তানের আগমন ঘটে। যার নাম রাখা হয়েছিলো শেখ মোহাম্মদ ওয়াজিদ উল্লাহ(সুবা মিয়া)(জন্মঃআনুমানিক ১৮৭০খ্রি. বাড়িঃবর্তমান হাফেজ সাহেব বাড়ি,দেওড়া পূর্ব পাড়া,যা হাফেজ ওয়াজিদ উল্লাহর নাম থেকে নামকরণ করা হয়েছে)। যিনি খুবই অল্প বয়সে(তৎকালীন সময়ে বর্তমান মেঘনা নদীর পূর্বপাশে অর্থাৎ বর্তমান আশুগঞ্জ, সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এলাকায় সর্বপ্রথম) দ্বীনি শিক্ষা লাভ করে কোরানের হাফেজ হয়েছিলেন।সেই থেকে তিনি অত্র পরগনাই ইসলামের দাওয়াত প্রচার এবং প্রসারে ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখেন।উনার বংশধর হিসেবে এখনো হাফেজ সাহেব বাড়িতে অসংখ্য হাফেজের উত্থান ঘটছে এবং ইসলামের খেদমত এ ব্যাপকভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

স্থাপনাঃ প্রাচীনতম স্থাপনার মধ্যে রয়েছে দেওড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (দেওড়া পূর্ব পাড়া) এবং তিনটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা সহ একটা মহিলা মাদ্রাস।। এছাড়াও এই গ্রামে একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।এছাড়াও রয়েছে সরকারি ইউনিয়ন ভূমি অফিস,ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়,পোস্ট অফিস, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক সহ ছোট বড় আরও উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান।